Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সাধারণ তথ্য

নোয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি জেলা। নোয়খালী জেলার উত্তরে কুমিল্লা ও চাঁদপুর, দক্ষিণে সন্দ্বীপ চ্যানেল, মেঘনার মোহনা ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা, পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলা অবস্থিত। উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় সামুদ্রিক জোয়ার-ভাটার কারনে নদী ভাঙ্গন নোয়াখালী জেলার একটি প্রাচীনতম সমস্যা। এ সমস্যা হতে উত্তরনের জন্য এবং মূলত নদী বক্ষ হতে ভূমি পুনরুদ্ধার করার জন্য 1957 সালে 1.4 মিলিয়ন রুপি ব্যায়ে লক্ষ্মীপুর জেলার ভবানীপুর হতে চর লরেন্স পর্যন্ত 12.000 কিঃমিঃ দৈর্ঘে্য ক্রস ড্যাম-1 নির্মাণ করা হয়। এই ক্রস বাঁধটি নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন নদী ভাঙ্গন বন্ধ হয় অপরদিকে নদী বক্ষ হতে প্রায় 20700 হেক্টর ভূমি মূল ভূ-খন্ডের সাথে যুক্ত হয়। ক্রস ড্যাম-1 নির্মাণের সফলতার ধারাবকহকতায় 1964 সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক 9.00 মিলিয়ন টাকা ব্যয়ে মান্নান নগর হতে আটকপালিয়া (হারিস চৌধুরী বাজার) পর্যন্ত প্রায় 16.000 কিঃমিঃ দৈর্ঘে্য ক্রস ড্যাম-2 নির্মাণ করা হয়। ক্রস ড্যাম-2 নির্মাণের ফলে প্রায় 71700 হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধার হয়।

 

জোয়ারের লবনাক্ত পানি ও জলোচ্ছ্বাস হতে নোয়াখালী জেলার জনগণের জান-মাল, ফসলাদি, গবাদি পশু, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী স্থাপনা সমূহকে রক্ষা করার জন্য 1960 সাল হতে 1990 সাল পর্যন্ত  59/1এ, 59/1বি, 59/3বি, 59/3সি, 73/1(এ+বি), 73/2 নামক 6টি পোল্ডার নির্মাণ করা হয়। এ 6টি পোল্ডারের আওতায় 325.540 কিঃমিঃ দীর্ঘ বেড়ী বাঁধ নির্মাণ, 940.290 কিঃমিঃ খাল খনন ও 97টি স্লুইস গেইট নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে 1990খ্রিঃ হতে 2010খ্রিঃ সাল পর্যন্ত সিডিএসপি-1, 2 ও 3 প্রকল্পের আওতায় আরও 68.460 কিঃমিঃ দীর্ঘ বেড়ী বাঁধ নির্মাণ, 265.120 কিঃমিঃ খাল খনন ও19টি স্লুইস গেইট নির্মাণ করা হয়। 2010খ্রিঃ সাল হতে সিডিএসপি-4 প্রকল্প চলমান আছে।

 

বর্তমানে সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীর ভাঙ্গন এর ফলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ও চর ফকিরা দুইটি ইউনিয়ন প্রায় বিলিন হওয়ার পথে । মেঘনা ও হাতীয় নদীর তীর ভাঙ্গনের কারণে বয়ারচর, ক্যারিংচর ও নাঙ্গুলিয়ার চরে তীর ভাঙ্গন অব্যাহত আছে। এ সকল এলাকার ভাঙ্গনরোধে 2টি প্রকল্প প্রনয়ন প্রক্রিয়াধীণ (এই সাইটের প্রকল্প সমূহ লিংকে বিস্তারিত উল্লেখিত)।

 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছোট ফেনী নদীর ব্যাপক ভাঙ্গনের হাত হতে এলাকার জনগণের জান-মাল, ফসলি জমি, গবাদি পশু, সরকারী-বেসরকারী স্থাপনা সমূহকে রক্ষা করার জন্য, সামুদ্রিক লোনা পানি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ বন্ধ করতঃ মিঠাপানির মাছ চাষ ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ভূমি পুনরুদ্ধার করার জন্য “নতুন ডাকাতিয়া পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদী নিস্কাশন প্রকল্প” এর আওতায় মুছাপুর রেগুলেটর ও মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণের ফলে ছোট ফেনী নদীর উভয় তীরে ব্যাপক ভাঙ্গন বন্ধ হয়েছে, প্রকল্পের আওতাভূক্ত প্রায় 1,30,000 হেক্টর এলাকায় দ্বিগুন ফসল উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং প্রায় 300 হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধার হয়েছে।

 

“উরির চর-নোয়াখালী ক্রস ড্যাম নির্মাণ প্রকল্প” শীর্ষক আরও একটি প্রকল্পের ডিপিপি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ও চর ফকিরা  ইউনিয়ন দুইটির ভাঙ্গনরোধ সহ প্রায় 10,000 হেক্টর ভূমি মূল ভূ-খন্ডের সাথে যুক্ত হবে। উল্লেখ্য “উরির চর-নোয়াখালী ক্রস ড্যাম নির্মাণ প্রকল্প” শীর্ষক প্রকল্পটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অগ্রাধিকার প্রাপ্ত একটি প্রকল্প।